চিকিৎসা বিজ্ঞানের জাদুকরী অগ্রগতির ফলে আজকাল জটিল থেকে জটিলতর অস্ত্রোপচারও হয়ে উঠেছে সহজ ও নিরাপদ। একসময় জরায়ু বা ইউটেরাস (Uterus) অপসারণ কিংবা জরায়ুর টিউমার কাটার কথা শুনলেই চোখে ভেসে উঠত পেটে বড় কাটার দাগ, অসহ্য যন্ত্রণা এবং সপ্তাহের পর সপ্তাহ হাসপাতালে শুয়ে থাকার ভয়াবহ ছবি। কিন্তু বর্তমানে কোলকাতায় আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় পেট না কেটে বা সামান্য ছিদ্র করে জরায়ুর অপারেশন অত্যন্ত সফলভাবে করা হচ্ছে।
আপনার বা আপনার প্রিয়জনের যদি জরায়ুর কোনো সমস্যার কারণে অপারেশনের পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে, তবে এই ব্লগ পোস্টটি আপনার সমস্ত ভয় ও দ্বিধা দূর করতে সাহায্য করবে।
পেট না কেটে জরায়ুর অপারেশন আসলে কী?
সাধারণ কথায় “পেট না কেটে অপারেশন” বলতে প্রধানত দুটি আধুনিক পদ্ধতিকে বোঝায়:
১. ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি (
Laparoscopic Surgery / Keyhole Surgery)
২. রোবোটিক সার্জারি (Robotic Surgery)
এছাড়া যোনিপথের মাধ্যমে জরায়ু বের করার পদ্ধতিকে বলা হয় ভেজাইনাল হিস্টেরেক্টোমি (Vaginal Hysterectomy), যেখানে পেটে কোনো কাটাই পড়ে না।
ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে পেটের ওপর মাত্র ০.৫ থেকে ১ সেন্টিমিটারের ২-৩টি ছোট ছিদ্র করা হয়। এর একটির মধ্য দিয়ে একটি সূক্ষ্ম ক্যামেরা (Laparoscope) পেটের ভেতর পাঠানো হয়, যা ভেতরের অংশের স্পষ্ট ছবি মনিটরে তুলে ধরে। এরপর বাকি ছোট ছিদ্র দিয়ে বিশেষ সূক্ষ্ম যন্ত্রংশের সাহায্যে সার্জন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অপারেশনটি সম্পন্ন করেন।
কোন কোন জরায়ুর সমস্যায় এই চিকিৎসা সম্ভব?
কোলকাতার অভিজ্ঞ গাইনোকোলজিস্ট ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জনরা নিম্নলিখিত সমস্যাগুলোতে এই আধুনিক পদ্ধতির সাহায্য নেন:
জরায়ুর ফাইবারয়েড (Uterine Fibroids): জরায়ুতে হওয়া অ-ক্যান্সারযুক্ত টিউমার অপসারণ করতে (Myomectomy) বা টিউমার সহ জরায়ু বাদ দিতে।
এডিনোমায়োসিস ও এন্ডোমেট্রিওসিস (Adenomyosis & Endometriosis): অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং মারাত্মক তলপেটের ব্যথার চিকিৎসায়।
জরায়ু ঝুলে পড়া (Uterine Prolapse): বয়সজনিত বা অন্য কারণে জরায়ু নিচের দিকে নেমে এলে।
অনিয়মিত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ (Dysfunctional Uterine Bleeding): যখন ওষুধে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় না।
গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সার: প্রাথমিক পর্যায়ের জরায়ু বা জরায়ুমুখের ক্যান্সারের চিকিৎসায়।
চিরাচরিত বা ওপেন সার্জারির চেয়ে এটি কেন উন্নত?
প্রথাগত কাটাকুটি অপারেশনের তুলনায় ল্যাপারোস্কোপিক ও রোবোটিক সার্জারির সুবিধা অপরিসীম:
দাগহীন বা সামান্য দাগ: পেটে বড় কাটার কোনো কুৎসিত দাগ থাকে না।
কম যন্ত্রণা ও কম রক্তক্ষরণ: অপারেশনের পর ব্যথা বা যন্ত্রণা অত্যন্ত কম হয় এবং রক্তপাত নামমাত্র।
দ্রুত সুস্থতা: রোগী সাধারণ অপারেশনের ৩-৪ দিনের জায়গায় ল্যাপারোস্কোপিতে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি ফিরে যেতে পারেন।
ইনফেকশনের ঝুঁকি কম: পেটের ভেতরের অঙ্গ বাইরের বাতাসের সংস্পর্শে কম আসে বলে সংক্রমণের সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে।
দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরা: ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে রোগী নিজের দৈনন্দিন কাজ বা অফিসে যোগ দিতে পারেন।
কোলকাতায় এই অপারেশনের আধুনিক সুবিধাসমূহ
কোলকাতা বর্তমানে পূর্ব ভারতের অন্যতম সেরা মেডিক্যাল হাব। শহরের শীর্ষস্থানীয় হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলোতে এখন বিশ্বমানের ‘কী-হোল’ ও রোবোটিক সার্জারির ব্যবস্থা রয়েছে।
উন্নত প্রযুক্তি: কোলকাতার প্রধান হাসপাতালগুলিতে থ্রি-ডি (3D) ল্যাপারোস্কোপি এবং অত্যাধুনিক ‘ডাই ভিঞ্চি’ (Da Vinci) রোবোটিক সিস্টেম উপলব্ধ, যা সার্জনদের মিলিমিটার স্তরের নিখুঁত অপারেশন করতে সাহায্য করে।
অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ: শহরের গাইনোকোলজিক্যাল সার্জনরা দেশ ও বিদেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং হাজার হাজার সফল অপারেশনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন।
সাশ্রয়ী চিকিৎসা: দিল্লি, মুম্বাই বা দক্ষিণের শহরের তুলনায় কোলকাতায় ল্যাপারোস্কোপিক জরায়ু অপারেশনের খরচ অনেকটাই কম।
অপারেশনের আগে ও পরের যত্ন: রোগী ও পরিবারের করণীয়
অপারেশনের পূর্বে:
ডাক্তারের পরামর্শমতো সমস্ত রক্ত পরীক্ষা, ইউএসজি (USG) বা প্রয়োজনে এমআরআই (MRI) করে নিতে হবে।
ডায়াবেটিস, থাইরয়েড বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।
অপারেশনের আগের রাতে নির্দিষ্ট সময় থেকে খালি পেটে থাকার নির্দেশ মেনে চলতে হবে।
অপারেশনের পরে:
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক সময়ে হাঁটাচলা শুরু করা উচিত, এতে রক্ত সঞ্চালন ভালো থাকে।
প্রথম কয়েকদিন হালকা ও সহজে হজম হয় এমন খাবার খাওয়া ভালো।
ভারী জিনিস তোলা বা অতিরিক্ত পরিশ্রমের কাজ ৩-৪ সপ্তাহ এড়িয়ে চলতে হবে।
কোনো অস্বাভাবিক ব্যথা, জ্বর বা অতিরিক্ত রক্তপাত হলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
অপারেশনের সম্ভাব্য খরচ কত হতে পারে?
কোলকাতায় পেট না কেটে জরায়ুর অপারেশনের খরচ মূলত কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে— যেমন হাসপাতালের নির্বাচন, ঘরের ধরন, রোগীর শারীরিক জটিলতা এবং ব্যবহৃত প্রযুক্তি (ল্যাপারোস্কোপিক নাকি রোবোটিক)।
সাধারণভাবে, কোলকাতার ভালো নার্সিংহোম বা হাসপাতালে ল্যাপারোস্কোপিক হিস্টেরেক্টোমি বা জরায়ু অপারেশনের খরচ ৮০,০০০ টাকা থেকে ১,৫০,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। রোবোটিক সার্জারির ক্ষেত্রে এই খরচ কিছুটা বেশি হতে পারে। বেশিরভাগ স্বাস্থ্য বিমা (Health Insurance) এবং সরকারি স্বাস্থ্য কার্ডের মাধ্যমেও এই চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যায়।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সার্জনকে কী কী প্রশ্ন করবেন?
অপারেশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনার গাইনোকোলজিস্টকে নিচের প্রশ্নগুলো নিঃসংকোচে জিজ্ঞাসা করুন:
আমার চিকিৎসার জন্য ল্যাপারোস্কোপি নাকি ভেজাইনাল— কোনটি সবচেয়ে উপযুক্ত?
শুধুমাত্র টিউমার বাদ দেওয়া যাবে, নাকি পুরো জরায়ু ফেলা দরকার?
অপারেশনের পর কতদিন হাসপাতালে থাকতে হবে?
আমার স্বাস্থ্য বিমায় এই চিকিৎসার পুরো খরচ কভার হবে কি?
শেষ কথা
জরায়ুর সমস্যায় ভোগা মানেই আর দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা বা পেটে বড় কাটার ভয় নয়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৌলতে কোলকাতাতেই এখন আন্তর্জাতিক মানের পেট না কেটে জরায়ু অপারেশন সম্ভব। সঠিক সময়ে সঠিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, ভয় কাটিয়ে সুস্থ ও সুন্দর জীবনের দিকে বাড়িয়ে দিন বাড়তি পদক্ষেপ।
Book an Appointment with Dr. Sankar Dasmahapatra
Dr. Sankar Dasmahapatra is available at several reputed hospitals across Kolkata.
Millennium Clinic – Teghoria Main Road, Near VIP Road, Kanchanjhunjha Apartment, Kolkata – 700059
Bhagirathi Neotia Woman and Child Care Centre – Premises No. 27-0327, Street No. 327, Action Area 1D, Newtown, Kolkata – 700756
Suraksha Clinic & Diagnostic– 111, PRE. NO.-04, SMART WORKSPACE, CBD, 0378, Action Area I, Newtown, Kolkata, West Bengal 700156
Manipal Hospital, Salt Lake– IB-193, Broadway Rd, IB Block, Sector 3, Bidhannagar, Kolkata, West Bengal 700106
To book an appointment or consultation, call:

(+91) 87776 13551 / (+91) 92306 16647 / (+91) 98300 78757

WhatsApp: 98300 78757